আইন কাকে বলে ও কি কি ? আইনের শ্রেণীবিভাগ | Who is the law and what is it? Classification of Laws

আইনের উৎপত্তি ও বিকাশঃ 

প্রিয় পাঠক বিগত পর্বে আমরা আইনের উপ্তত্তি এবং বিকাশ নিয়ে কিনচিত আলোকপাত করেছিলাম, লেখার দৈর্ঘ বড় হয়ে যাবে বলে বিগত পর্বে লেখাটি সংক্ষেপ করা হয়েছে, বাকি আলোচনা এই পর্বে করার চেষ্টা করব। 

আইন কি?

রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভায়ায় আই হল সার্বভৈাম শক্তি কর্তৃক আরপিত নিয়ম, যা সমাজ বা রাষ্ট্রের নিয়ম শৃঙ্খলা ও স্থিতিশিলতা নিশ্চত করবে এবং সকল নাগরিকদের একত্রিত ও সঙ্গবদ্ধ রাখবে। আইন যে সব সময় মানুষের কল্যানে প্রনয়ন করা হয়েছে তা কিন্তু নয় আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অনেক জালিশ শাসকই জনগণের প্রতি জুলুম অত্যাচার করেছে। যার সাক্ষি ইতিহাস। 

আইন কাকে বলে ও কি কি ? আইনের শ্রেণীবিভাগ

হিটলার মুসুলিনি, আইন ও রাষ্ট্রকে পুজি করে দেশ ও পৃথীবির অপুরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে। একটি রাষ্ট্রের শিঙ্গলা ও নিরাপত্তা বিধান করার জন্য সুন্দর আইনের কোন বিকল্প নেই, আইন ই পারে একটি বিরাট গণগোষ্টিকে একত্রিত রাখতে দেশের অখন্ডতা অখ্যুন্য রাখতে। 

প্রাচিত কাল এবং রাজ ত্রান্তিক দেশে আইন রাজা একক ভাবে প্রণয়ন করলেই আধুনিক গণত্রান্ত্রিক দেশে আইন প্রণয়নের জন্য সুন্দর ব্যবস্থা আছে যেমন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্তৃক ভোটাভোটির মাধ্যমে দেশের সংসদে আইন পাশ হয়ে থাকে, এখন আর কেউ চাইলেই নিজের মন মত আইন বানাতে পারে না। 

কোন আইন পাশ করতে হলে প্রথমে সংসদে সেই আইন সংক্রন্ত বিল উত্থাপন করতে হয়, সংসদের সকল সদস্য সেই আইনটি নিয়ে বিতর্ক করেন এবং সেই আইনটির প্রয়জনীয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সংখ্যা গরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের ভোট পেলেই কেবলমাত্র আইটি পাশ হয়ে কার্যকর হতে পারে অন্যথায় সেই আইনটি পাশ হবে না। 

প্রচীন কালে এমন কোন নিয়ম নিতি ছিলনা রাজা বাদশা কিংবা স¤্রাট যা চাইতেন তাই হত। তিনি যেমন আইন বানাতে চাইতেন তেমন আইনই বানাতে পারতেন তাকে কেউ বাধা দেবার ছিল না, আর কেউ বাধা দিলেও বাধা প্রদানকারীর জীবনে নেমে আসত দুসহ্য শাস্তি।

যাই হোক ওসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে খেখাটি অনক লম্বা হয়ে যাবে তাই ওসব নিয়ে আলোচনা করে আপনাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না। 

বিভিন্য দেশের নাগরিকদের আচার আচরণ, চিন্তা ভাবনা আলাদা আলাদা হয়ে থাকে আর এসকল আলাদা চিন্তা ও আচরণের মানুষের জন্য ভিন্য ভিন্য আইন হয়া প্রয়জন, এই তত্য থেকে থেকেই দেশ ভেদে আই ভিন্য করার মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়। 

আমাদের দেশেও অসংখ্য আইন কার্যক্রম আছে মেধাসত্ব থেকে শুরু করে হত্যার শাস্তি নিশ্চিত করে অসংখ্য আইন প্রনয়ন করা হয়েছে। আই প্রনয়ন করলেই কিন্তু সমাজে শান্তি শিঙ্খলা বিরাজ করবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়। যুগোপযুগি আইন প্রনয়ন করে সে আইন প্রয়গ ও ব্যস্তবায়ন করতে হয়, আইন প্রয়গ ও ব্যস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্য দেশ গড়ে তুলেছে আইন প্রয়গকারী সংস্থা যেমন, পুলিশ, র‌্যাব ইত্যাদি। 

এসকল বাহিনি আইনের যথাযথ প্রয়গ নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের শান্তি রক্ষা ও জনগণের জান মাল হেফাজতের দায়িক্ত সদা নিয়জিত থাকে। একটি দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনি কতটা দক্ষ ও কর্মমুখি তার ওপের অনেকটাই নির্ভর করে সে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়টি। 

তবে একটি নিরাপদ ও শান্তিপুর্ণ সমাজ ও দেশ গড়তে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, কারণ শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনির কর্মকান্ড অপরাধ নিমুল করতে পারে না। 

জনগণকে অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্য মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিশিম। তাই ধনি,গরিব, নারী, পুরুস নির্বিশেষে সকলকে শিক্ষিত করে তোলা খুবই প্রয়জন। জাপানিরা অত্যান্ত বিনয়ি ও সুশিৃংখল জাতি। 

জাপানে অপরাধ প্রবণতা নেই বলেলই চলে। প্রিয় পাঠক আপনি কি জানেন যে জাপান একসময় যুদ্ধ বিগ্রহ রক্তপাত ও খুনোখুনিতে লিপ্ত ছিল সেই জাপান আজ এতটা ভদ্র সোভ্য জাতিতে পরিণত হল কি করে? উত্তর হল শিক্ষা, শিক্ষাই পারে একটি দেশ ও জাতিকে মানবিক ও সুশিৃংখল ভাবে গড়ে তুলতে। প্রিয় পাঠক আজ এ প্রর্যন্তই খুব দ্রুতই পরবর্তি পর্ব নিয়ে হাজির হব।

আইন কাকে বলে ও কি কি ?

শিতের সকালের কুয়াশা ভেজা শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের নতুন পর্বটির সুচনা করছি। বিগত পর্ব সুমূহে আমরা আইনের উপ্তত্তি,বিকাশ এবং প্রযগ ও ফলাফল নিয়ে কিনচিত আলোকপাত করেছিলাম, আজও বিগত পর্বসুমূহের ন্যায় আইনের প্রয়গ এবং ফলাফল নিয়ে কিনচিত আলোকপাক করার চেষ্টা করব। 

দেশ ও জাতির সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে প্রয়জনীয় আইন প্রনয়নের কোন বিকল্প নেই, আইন প্রনয়ন কালে খেয়াল রাখতে হবে আইন যেন অমানবিক ও বর্বর না হয়, একজন অপরাধীর অপরাধ করার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, পরিবার বিজ্ঞানে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে তা হচ্ছে, পরিবারই একটি শিশুর সব থেকে বড় বিদ্যালয়। 

একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সেই শিশুর মন বা মস্তিস্ক একদম পরিক্ষার থাকে। শিশুটি পরিবার ও আশপাশের মানুষদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, শিশুটির পরিবারের মানুষদের আচার আচরণ, চিন্তা ভাবনা, জীবন যাপনের পদ্ধতি, অনুসরণ করেই একটি শিশুর মানসিক বিকাশ গঠিত হয়।

তাই কোন শিশু যদি এমন পরিবারে জন্মগ্রহণ করে যে পরিবারে অপরাধের চর্চা করা হয় তবে প্রবল সম্ভবনা থাকে শেই শিশুটিও অপরাধে লিপ্ত হবে। শিশুটির পরিবারে যদি মানবিক গুনসম্পন্য মানুষ থাকে তবে শিশুটির মধ্যেই সেই মানবিক গুন বৈষিষ্ট পরিলক্ষিত হয়।

 প্রিয় পাঠক আশা করি বুঝতে পেরেছেন একটি অপরাধমুক্ত ও মানবিক দেশ ও জাতি গঠনে পরিবারের গুরুত্ব অপরিশিম। আমাদের শিশুদের সাথে আচরণে অত্যান্ত সতর্ক হতে হবে। আমাদের শিশুদের সাথে আমরা যেমন আচরণ করব তাদের মানসিকতাও ঠিক সে ভাবেই গড়ে উঠবে। 

আমরা যদি কথায় কথায় শিশুদের গালাগালি করি কিংবা মার ধর করি তবে শেই শিশুটিও তার থেকে দুর্বল শিশুর সাথে সেই একটি আচরণ করবে। কথায় কথায় গালাগালি করবে। মার ধর করবে। 

সেই শিশুটি যদি বড় হয়ে কোন সমাজ নেতা হয় তবে সে সমাজের অপেক্ষাকৃত দূর্বল সদস্যদের সাথেও অমানবিক ও অন্যায় আচরণ করবে। সেই শিশুটি যদি বড় হয়ে কোন দেশের প্রেসিডেন্ট কিংবা সরকার প্রধান হয় তবে সেই অপেক্ষাকৃত দূর্বল দেশের সাথে অমানবিক আচরণ করবে। হয়ত সে আক্রমণ করে বসবে দূর্বল দেশটিকে হত্যা করবে নিরিহ বেসামরিক নাগরিকদের। 

তাই প্রিয় পাঠক শিশুদের সাথে সুন্দর ও মানবিক আচরণ করুন একটি শিশুকে প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সর্ব প্রথম আপনাকেই এগিয়ে আসতে হবে। আজকাল আমাদের অনেকেই শ্বপ্ন থাকে একটি উন্নত দেশে বাস করার তাই তারা লেখাপড়া শেষ করে বিভিন্য উন্নত দেশের দুতাবাসের সামনে ভিসার জন্য লম্বা লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকেন। কারন কোন একটি উন্নত দেশে যেতে পারলে আর পিছু তাকাতে হবে না,

মোটা বেতনের সাথে উন্নত জীবন যাপন করা যাবে এবং উন্নত স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে সরকাররের দেয়া বিভিন্য সুযোগ সুবিধা উপভোগ করা যাবে। তাই আমাদের বিদেশে যাবার প্রতি এত আকাঙ্খা। কিন্তু কখনই আমরা আমাদের নিজেদের দেশটাকে উন্নত দেশের ন্যায়  গড়ে তোলার কথা ভাবি না। 

আর ভেবে থাকলেও কার্যকর তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করি না, আমরা সমস্ত দোষ দেশের সরকারের প্রতি আপর করে থাকি আমরা ভুলেই যাই সুধু দেশের সরকাররের প্রতি একটি উন্নত, সুখি, মানবিক দেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এজন্য দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের সমান অবদান রাখা প্রয়জন।

একজন শিক্ষক তার বিদ্যালয়ে ছাত্র ছাত্রীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেবেন, পিতা মাতা শিশু সন্তানকে শিক্ষা দেবেন উদার নৈতিকতা সহ যাবতীয় মানবিক গুনাবলি। তবেই তো আমাদের দেশ একটি সুখি সর্রিদ্ধ দেশে পরিণত হবে। তখন আর আমাদের দেশের নাগরিকদের উন্নত জীবনের আশায় বিদেশি দুতাবাসের সামনে সারি বেধে দাড়িয়ে থাকতে হবে না।

তো আমরা যা আলচনা করছিলাম, শুধু আইন প্রনয়ন এবং আইন প্রয়গের ব্যবস্থা করলেই দেশ ও জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। দেম ও জাতির সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করতে হলে নাগরীকদের মানবিক করে গোড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। প্রিয় পাঠক আজ এই প্রর্যন্তই খুব তারাতারি আরেকটি পর্ব নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ভাল থাকবেন সুস্থ্য থাকবেন, আমাদের সাথেই থাকবেন।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url

আপনি যা খুজছেন